গোড়ায় গলদ
করিয়ে দিতে পার তো বড়ো ভালো হয়। আমি নিশ্চয় জানি ওরা পরস্পরকে একবার দেখলে পছন্দ না করে থাকতে পারবে না। নিমাই ছেলেটিকে বড়ো ভালো দেখতে—তাকে দর্শন মাত্রেই স্নেহ জন্মায়।

কমলমুখী। নিমাইয়ের মনের ইচ্ছে কী সেটাও তো জানতে হবে কাকা। আবার কি এইরকম একটি কাণ্ড বাধানো ভালো।

নিবারণ। সে আমি তার বাপের কাছে শুনেছি। সে বলে আমি উপার্জন না করে বিয়ে করব না। সে তো আমার মেয়েকে কখনো চক্ষে দেখে নি। একবার দেখলে ও-সব কথা ছেড়ে দেবে। বিশেষ, তার বাপ তাকে খুব পীড়াপীড়ি করছে। আমি চন্দ্রবাবুকে বলে তাকে একবার ইন্দুর সঙ্গে দেখা করতে রাজি করব। চন্দ্রবাবুর কথা সে খুব মানে।

কমলমুখী। তা, ইন্দুকে আমি সম্মত করাতে পারব।

[নিবারণের প্রস্থান
ইন্দুমতীর প্রবেশ

কমলমুখী। লক্ষ্মী দিদি আমার, আমার একটি অনুরোধ তোকে রাখতে হবে।

ইন্দুমতী। কী বল্‌-না ভাই।

কমলমুখী। একবার নিমাইবাবুর সঙ্গে তুই দেখা কর্‌।

ইন্দুমতী। কেন দিদি, তাতে আমার কী প্রায়শ্চিত্তটা হবে।

কমলমুখী। দেখ্‌ ইন্দু, এ তো ভাই ইংরেজের ঘর নয়, তোকে তো বিয়ে করতেই হবে। মনটাকে অমন করে বন্ধ করে রাখিস নে—তুই যা মনে করিস ভাই, পুরুষমানুষ নিতান্তই বাঘভাল্লুকের জাত নয়—বাইরে থেকে খুব ভয়ংকর দেখায়, কিন্তু ওদের বশ করা খুব সহজ। একবার পোষ মানলে ঐ মস্ত প্রাণীগুলো এমনি গরিব গোবেচারা হয়ে থাকে যে দেখে হাসি পায়। পুরুষমানুষের মধ্যে তুই কি ভদ্রলোক দেখিস নি। কেন ভাই, কাকার কথা একবার ভেবে দেখ্‌-না।

ইন্দুমতী। তুই আমাকে এত কথা বলছিস কেন দিদি। আমি কি পুরুষমানুষের দুয়োরে আগুন দিতে যাচ্ছি। তারা খুব ভালো লোক, আমি তাদের কোনো অনিষ্ট করতে চাই নে।

কমলমুখী। তোর যখন যা ইচ্ছে তাই করেছিস ইন্দু, কাকা তাতে কোনো বাধা দেন নি। আজ কাকার একটি অনুরোধ রাখবি নে?

ইন্দুমতী। রাখব ভাই—তিনি যা বলবেন তাই শুনব।

কমলমুখী। তবে চল্‌, তোর চুলটা একটু ভালো করে দিই। নিজের উপরে এতটা অযত্ন করিস নে।


দ্বিতীয় দৃশ্য
কমলমুখীর গৃহ
নিমাই

নিমাই। চন্দর যখন পীড়াপীড়ি করছে তা নাহয় একবার ইন্দুমতীর সঙ্গে দেখা করাই যাক। শুনেছি তিনি বেশ বুদ্ধিমতী সুশিক্ষিতা মেয়ে—তাঁকে আমার অবস্থা বুঝিয়ে বললে তিনি নিজেই আমাকে বিয়ে করতে অসম্মত হবেন। তা হলে আমার ঘাড় থেকে দায়টা যাবে—বাবাও আর পীড়াপীড়ি করবেন না।