রুদ্রচণ্ড
আজ তোরে কি করিয়া সুখী করি বাছা?
আশীর্বাদ করি, বাছা, জন্মান্তরে যেন
এমন নিষ্ঠুর পিতা তোর নাহি হয়!
অমিয়া মা, কাঁদিস্‌ নে, থাক্‌ বুকে থাক্‌!


ত্রয়োদশ দৃশ্য
চাঁদ কবি
ভ্রমিব সন্ন্যাসীবেশে শ্মশানে শ্মশানে।
অদৃষ্ট রে, একি তোর নিদারুণ খেলা,
এক দিনে করিলি কি ওলট্‌পালট্‌!
কিছু রাখিলি নে আজ, কাল যাহা ছিল!
পৃথ্বীরাজ, রাজদণ্ড, দৌর্দণ্ড প্রতাপ,
হাসি-কান্না-লীলা-ময় নগর নগরী,
অচল অটল কাল ছিল বর্তমান,
আজ তার কিছু নাই! চিহ্ন মাত্র নাই!
এই যে চৌদিকে হেরি গ্রাম দেশ যত,
এই যে মানুষগণ করে কোলাহল,
একি সব শ্মশানেতে মরীচিকা আঁকা!
মাঝে মাঝে স্থানে স্থানে মিলাইয়া যায়,
জগতের শ্মশান বাহির হ’য়ে পড়ে।
চিতার কোলের পরে অস্থিভস্মমাঝে
মানুষেরা নাট্যশালা করেছে স্থাপন!
সন্ন্যাসী, কোথায় যাস্‌ শ্মশানে ভ্রমিতে!
নগর নগরী গ্রাম সকলি শ্মশান।
পৃথ্বীরাজ, তুমি যদি গেলে গো চলিয়া,
কবির বীণায় নাম রহিবে তোমার!
যত দিন বেঁচে রব’ যশোগান তব
দেশে দেশে গ্রামে গ্রামে বেড়াব গাহিয়া।
কুটীরের রমণীরা কাঁদিবে সে গানে,
বালকেরা ঘেরি মোরে শুনিবে অবাক্‌!
দেশে দেশে সে গান শিখিবে কত লোক,