তপতী

১। ঠিক বলছ দাদা, সবাই পণ করেছ?

২। হাঁ, সবাই।

১। বরাবর দেখে আসছি তোমরা মোড়লরা পিছন থেকে চেঁচিয়ে বল, বাহবা, আর সামনে থেকে মাথায় বাড়ি পড়ে আমাদেরই। ঠিক বলছ, সবাই খাজনা দেবে কুমার মহারাজকে, কেউ পিছবে না?

৩। কেউ না, কেউ না। আজ মহারাজের পা ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করব।

১। এ কথা ভালো। মার তো কপালে লেখাই আছে। একলা খাই সেইটেই দুঃখ। দেশ জুড়ে মারের ভোজ বসে যায় যদি, পাত পাড়তে ভয় করি নে।

২। এই রইল কথা?

১। হাঁ, রইল।

৩। পিছোবি নে?

১। পিছোবার রাস্তাটা তোমরাই খোলসা রাখ, সে রাস্তা আমরা খুঁজেই পাই নে।

৩। ওরে বোকা, মরতে পারি নে, তা নয়, কিন্তু আমরা মলে তোদের দশা কী হবে।

১। আমাদের অন্ত্যেষ্টিসৎকারটা বন্ধ থাকবে।

একদল স্ত্রীলোকের প্রবেশ

প্রথমা। রাজার অভিষেকের সময় হল?

২। না, এখনো দেরি আছে। তোমরা প্রস্তুত আছ তো?

প্রথমা। আমাদের জন্যে ভেবো না গো, ভেবো না। তোমাদের পুরুষের মধ্যেই দেখি কেউ বা এগোন কেউ বা পিছোন। কেউ বলছেন সময় বুঝে কাজ, কেউ বলছেন কাজ বুঝে সময়। মাঝের থেকে সময় যাচ্ছে চলে।

দ্বিতীয়া। দেখে এলেম তোমাদের ন্যায়বাগীশ এখনো বসে তর্ক করছেন, যিনি রাজা তিনি সিংহাসনে বসেন, না, যিনি সিংহাসনে বসেন তিনিই রাজা। এই নিয়ে দুই পক্ষে মাথা-ভাঙাভাঙি চলছে আমাদের পাড়ায়। মেয়েরা কাল সমস্ত রাত ধরে সাজিয়েছে মাঙ্গল্যের ডালা।

তৃতীয়া। ভোর থেকে যে-যার গ্রাম থেকে সব বেরিয়ে পড়ল।

১। আর লজ্জা দিয়ো না আমাদের। এ কথা মেনে নিচ্ছি মেয়েদের মতো পুরুষ মেলে না। তোমাদের গানের দল আছে তো?

দ্বিতীয়া। হাঁ, তারা এল বলে।

২। তোমাদের উমিচাঁদের মেয়ে?

তৃতীয়া। সেই তো সব দল ডেকে আনছে।

২। নন্দপল্লীর উপযুক্ত মেয়ে বটে। সেদিন বিতস্তার ঘাটে আমাদের করমচাঁদ গিয়েছিলেন তাকে গোটা দুয়েক মিঠে কথা বলতে। কঙ্কণের এক ঘা খেয়েই মুখ বন্ধ।

প্রথমা। জান না বুঝি, সে বলেছে বেত্রবতী নাম নেবে— কুমার মহারাজের সিংহাসনের পশ্চাতে থাকবে তার পরিচারিকা হয়ে।

১। দাদা, তা হলে আমি ছাগল-চরানোর ব্যাবসা ছেড়ে দিয়ে রাজার ছত্রধর হব।