শেষ সপ্তক

যেন কালো পাথরে কাটা দেবতার মূর্তি ;

আপন কর্মের অপমানকে প্রতিপদে সে চলছিল পেরিয়ে

ছিন্ন শিকল পায়ে নিয়ে পাখি যেমন যায় উড়ে।

দেবতা তার সৌন্দর্যে তাকে দিয়েছেন সুদূরতার সম্মান।

 

                    এই দূর আকাশ সকল মানুষেরই অন্তরতম ;

                    জানলা বন্ধ, দেখতে পাই নে।

                     বিষয়ীর সংসার, আসক্তি তার প্রাচীর,

                     যাকে চায় তাকে রুদ্ধ করে কাছের বন্ধনে।

                      ভুলে যায় আসক্তি নষ্ট করে প্রেমকে,

                      আগাছা যেমন ফসলকে মারে চেপে।

 

আমি লিখি কবিতা, আঁকি ছবি।

দূরকে নিয়ে সেই আমার খেলা ;

দূরকে সাজাই নানা সাজে,

আকাশের কবি যেমন দিগন্তকে সাজায়

সকালে সন্ধ্যায়।

 

                     কিছু কাজ করি তাতে লাভ নেই, তাতে লোভ নেই,

                    তাতে আমি নেই।

                    যে কাজে আছে দূরের ব্যাপ্তি

                    তাতে প্রতিমুহূর্তে আছে আমার মহাকাশ।

                    এইসঙ্গে দেখি মৃত্যুর মধুর রূপ, স্তব্ধ নিঃশব্দ সুদূর,

                    জীবনের চারদিকে নিস্তরঙ্গ মহাসমুদ্র ;

                   সকল সুন্দরের মধ্যে আছে তার আসন, তার মুক্তি।


অন্য কথা পরে হবে।

গোড়াতেই বলে রাখি তুমি চা পাঠিয়েছ, পেয়েছি।

এতদিন খবর দিইনি সেটা আমার স্বভাবের বিশেষত্ব।