কবিতা

শুনিয়া ভারত পাখি, গাইত শাখায় থাকি,

        আকাশ পাতাল পৃথ্বী করিয়া মোহিত।

সে-সব স্মরণ করে কাঁদ্‌ লো আবার!

আয় রে প্রলয় ঝড়, গিরিশৃঙ্গ চূর্ণ কর্‌,

        ধূর্জটি! সংহার-শিঙ্গা বাজাও তোমার।

        প্রভঞ্জন ভীমবল, খুলে দেও বায়ুদল,

ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাক ভারতের বেশ।

        ভারত-সাগর রুষি, উগরো বালুকারাশি,

মরুভূমি হয়ে থাক্‌ সমস্ত প্রদেশ। '

        বলিতে নারিল আর প্রকৃতিসুন্দরী,

ধ্বনিয়া আকাশ ভূমি, গরজিল প্রতিধ্বনি,

কাঁপিয়া উঠিল বেগে ক্ষুদ্ধ হিমগিরি।

জাহ্নবী উন্মত্তপারা, নির্ঝর চঞ্চল ধারা,

        বহিল প্রচণ্ড বেগে ভেদিয়া প্রস্তর।

প্রবল তরঙ্গভরে, পদ্ম কাঁপে থরে থরে,

        টলিল প্রকৃতি-সতী আসন-উপর।

সুচঞ্চল সমীরণে, উড়াইল মেঘগণে,

        সুতীব্র রবির ছটা হল বিকীরিত।

আবার প্রকৃতি-সতী আরম্ভিল গীত। —

        ‘ দেখিয়াছি তোর আমি সেই বেশ।

অজ্ঞাত আছিলি যবে মানব নয়নে।

        নিবিড় অরণ্য ছিল এ বিস্তৃত দেশ।

বিজন ছায়ায় নিদ্রা যেত পশুগণে।

     কুমারী অবস্থা তোর সে কি পড়ে মনে?

        সম্পদ বিপদ সুখ, হরষ বিষাদ দুখ

     কিছুই না জানিতিস সে কি পড়ে মনে?

     সে-এক সুখের দিন হয়ে গেছে শেষ —

      যখন মানবগণ , করে নাই নিরীক্ষণ,

     তোর সেই সুদুর্গম অরণ্য প্রদেশ।

     না বিতরি গন্ধ হায়, মানবের নাসিকায়

        বিজনে অরণ্যফুল যাইত শুকায়ে —

        তপনকিরণ-তপ্ত, মধ্যাহ্নের বায়ে।