বাপী

একদা বিজনে যুগল তরুর মূলে

তৃষ্ণার জল তুমি দিয়েছিলে তুলে।

     আর কোনোখানে ছায়া নাহি দেখি,

     শুধালেম, কাছে বসিতে দিবে কি।

সেদিন তোমার ঘরে ফিরিবার বেলা

বহে গেল বুঝি, কাজে হয়ে গেল হেলা।

 

অদূরে হোথায় ভাঙা দেউলের ধারে

পূর্ব যুগের পূজাহীন দেবতারে

     প্রভাত-অরুণ প্রতিদিন খোঁজে,

     শূন্য বেদির অর্থ না বোঝে,

দিন শেষ হলে সন্ধ্যাতারার আলো

যে পূজারী নাই তারে বলে, দীপ জ্বালো।

 

একদিন বুঝি দূরে কোন্‌ রাজধানী

রচনা করেছে দীর্ঘ এ পথখানি।

     আজি তার নাম নাই ইতিহাসে ;

     জীর্ণ হয়েছে বালুকার গ্রাসে,

প্রান্তরশেষে শীর্ণ বনের কোলে

জনপদবধূ জল নিয়ে যায় চলে।

 

লুপ্তকালের শুষ্কসাগরধারে

বহু বিস্মৃতি যেথা রয় স্তূপাকারে,

     অতি পুরাতন কাহিনী যেথায়

     রুদ্ধ কণ্ঠে শূন্যে তাকায়,

হারানো ভাষার নিশার স্বপ্নছায়ে

হেরিনু তোমায়, আসিনু ক্লান্ত পায়ে।

 

শুধু দুটি তরু মরুর প্রাণের কথা,

লুকানো কী রসে বাঁচে তার শ্যামলতা।