রাজা ও রানী

বিক্রমদেব।                           তাই চলো।

বাড়ে চিন্তা যত চিন্তা কর। কার্যস্রোতে

আপনারে ভাসাইয়া দিনু, দেখি কোথা

গিয়া পড়ি, কোথা পাই কূল।

প্রহরীর প্রবেশ

    প্রহরী।                           মহারাজ,

এসেছে সাক্ষাৎ-তরে ব্রাহ্মণতনয়

দেবদত্ত।

বিক্রমদেব।         দেবদত্ত? নিয়ে এসো, নিয়ে

এসো তারে। না, না, রোসো, থামো, ভেবে দেখি।

কী লাগিয়ে এসেছ ব্রাহ্মণ? জানি তারে

ভালোমতে। এসেছে সে যুদ্ধক্ষেত্র হতে

ফিরাতে আমারে। হায় বিপ্র, তোমরাই

ভাঙিয়াছ বাঁধ, এখন প্রবল স্রোত

শুধু কি শস্যের ক্ষেত্রে জলসেক করে

ফিরে যাবে, তোমাদের আবশ্যক বুঝে

পোষ-মানা প্রাণীর মতন? চূর্ণিবে সে

লোকালয়, উচ্ছন্ন করিবে দেশ গ্রাম।

সকম্পিত পরামর্শ উপদেশ নিয়ে

তোমরা চাহিয়া থাকো— আমি ধেয়ে চলি

কার্যবেগে, অবিশ্রাম গতিসুখে, মত্ত

মহানদী যে আনন্দে শিলারোধ ভেঙে

ছুটে চিরদিন। প্রচণ্ড আনন্দ-অন্ধ,

মুহূর্ত তাহার পরমায়ু— তারি মধ্যে

উৎপাটিয়া নিয়ে আসে অনন্তের সুখ

মত্ত করিশুণ্ডে ছিন্ন রক্তপদ্মসম।

বিচার বিবেক পরে হবে। চিরকাল

জড় সিংহাসনে পড়ি করিব মন্ত্রণা।—

চাহি না করিতে দেখা ব্রাহ্মণের সনে।

  জয়সেন। যে আদেশ।