বশীকরণ
পঞ্চম অঙ্ক
অন্নদা

অন্নদা। ব্যাপারখানা তো কিছুই বুঝতে পারলেম না। ঘটকের কথা শুনে এলেম কন্যা দেখতে। যিনি দেখা দিলেন, তাঁকে তো বয়স দেখে কোনোমতেই কন্যার মা বলে মনে হয় না, চেহারা দেখে বোধ হল অপ্সরী-যদিচ অপ্সরীর চেহারা কিরকম পূর্বে কখনো দেখি নি। শেক্‌হ্যাণ্ড করতে যেমনি হাত বাড়িয়ে দিয়েছি অমনি ফস্‌ করে আমার হাতে কড়ি-বাঁধা একগাছি লাল সুতো বেঁধে দিলে। আর-কেউ হলে গোলমাল করতেম; কিন্তু যে সুন্দর চেহারা, গোলমাল করবার জো কী! কিন্তু, এ-সমস্ত কোন্‌দেশী দস্তুর তা তো বুঝতে পারছি নে।

মাতাজির প্রবেশ

মাতাজি। ( স্বগত) অনেক সন্ধান করে তবে পেয়েছি। আগে আমার গুরুদত্ত বশীকরণ-মন্ত্রটা খাটাই, তার পরে পরিচয় দেব। ( অন্নদার কপালে নরকপাল ঠেকাইয়া) বলো, হুর্‌লিং।

অন্নদা। হুর্‌লিং।

মাতাজি। ( অন্নদার গলায় জবার মালা পরাইয়া) বলো, কুড়বং কড়বং ক্‌ড়াং।

অন্নদা। ( স্বগত) ছি ছি! ভারি হাস্যকর হয়ে উঠছে। একে আমার কোটের উপর জবার মালা, তার উপরে আবার এই অদ্ভূত শব্দগুলো উচ্চারণ!

মাতাজি। চুপ করে রইলে যে?

অন্নদা। বলছি। কী বলছিলেন বলুন।

মাতাজি। কুড়বং কড়বং ক্‌ড়াং।

অন্নদা। কুড়বং কড়বং ক্‌ড়াং। ( স্বগত) রিডিক্লাস!

মাতাজি। মাথাটা নিচু করো। কপালে সিঁদুর দিতে হবে।

অন্নদা। সিঁদুর! সিঁদুর কি এই বেশে আমাকে ঠিক মানাবে?

মাতাজি। তা জানি নে, কিন্তু ওটা দিতে হবে।

অন্নদার কপালে সিঁদুর-লেপন

অন্নদা। ইস! সমস্ত কপালে যে একেবারে লেপে দিলেন!

মাতাজি। বলো বজ্রযোগিন্যৈ নমঃ। ( অন্নদার অনুরূপ আবৃত্তি) প্রণাম করো। (অন্নদাকর্তৃক তথাকৃত) বলো কুড়বে কড়বে নমঃ। প্রণাম করো। বলো হুর্‌লিঙে ঘুর্‌লিঙে নমঃ। প্রণাম করো।

অন্নদা। ( স্বগত) প্রহসনটা ক্রমেই জমে উঠছে।

মাতাজি। এইবার মাতা বজ্রযোগিনীর এই প্রসাদী বস্ত্রখণ্ডও মাথায় বাঁধো।

অন্নদা। ( স্বগত) এই শালুর টুকরোটা মাথায় বাঁধতে হবে! ক্রমেই যে বাড়াবাড়ি হতে চলল। ( প্রকাশ্যে) দেখুন, এর চেয়ে বরঞ্চ আমি পাগড়ি পরতেও রাজি আছি, এমন-কি, বাঙলিবাবুরা যে টুপি পরে তাও পরতে পারি—

মাতাজি। সে-সমস্ত পরে হবে, আপাতত এইটে জড়িয়ে দিই।

অন্নদা। দিন।