নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা

[ প্রস্থান

চিত্রাঙ্গদা।      হায় হায়, নারীরে করেছি ব্যর্থ

দীর্ঘকাল জীবনে আমার।

ধিক্‌ ধনুঃশর!

ধিক্‌ বাহুবল!

মুহূর্তের অশ্রুবন্যাবেগে

ভাসায়ে দিল যে মোর পৌরুষসাধনা।

  অকৃতার্থ যৌবনের দীর্ঘশ্বাসে

বসন্তেরে করিল ব্যাকুল॥

রোদন-ভরা এ বসন্ত

কখনো আসে নি বুঝি আগে।

মোর   বিরহবেদনা রাঙালো

কিংশুকরক্তিমরাগে।

সখীগণ।     তোমার বৈশাখে ছিল

প্রখর রৌদ্রের জ্বালা,

কখন বাদল

আনে আষাঢ়ের পালা,

হায় হায় হায়।

চিত্রাঙ্গদা।           কুঞ্জদ্বারে বনমল্লিকা

সেজেছে পরিয়া নব পত্রালিকা,

সারা দিন-রজনী অনিমিখা

কার পথ চেয়ে জাগে।

সখীগণ।      কঠিন পাষাণে কেমনে গোপনে ছিল,

সহসা ঝরনা

নামিল অশ্রুঢালা।

হায় হায় হায়।

চিত্রাঙ্গদা।     দক্ষিণসমীরে দূর গগনে

একেলা বিরহী গাহে বুঝি গো।

কুঞ্জবনে মোর মুকুল যত

আবরণবন্ধন ছিঁড়িতে চাহে।

সখীগণ।     মৃগয়া করিতে

বাহির হল যে বনে