বন-ফুল
দেখিছে নীরজা, ফেলিতেছে শ্বাস,
সুখের স্বপন দেখিয়ে তখন
     ঘুমায় যুবক প্রফুল্লমুখে!
‘ঘুমাও বিজয়!    ঘুমাও গভীরে—
দেখো না দুখিনী নয়নের নীরে
করিছে রোদন তোমারি কারণ—
     ঘুমাও বিজয় ঘুমাও সুখে!
দেখো না তোমারি তরে একজন
সারা নিশি দুখে করি জাগরণ
বিছানার পাশে করিছে রোদন—
     তুমি ঘুমাইছ ঘুমাও ধীরে!
দেখো না বিজয়! জাগি সারা নিশি
প্রাতে অন্ধকার যাইলে গো মিশি
আবাসেতে ধীরে যাইব গো ফিরে—
     তিতিয়া বিষাদে নয়ননীরে
     ঘুমাও বিজয়।    ঘুমাও ধীরে!’

ষষ্ঠ সর্গ
‘কমলা ভুলিবে সেই শিখর কানন,
     কমলা ভুলিবে সেই বিজন কুটীর—
আজ হতে নেত্র!    বারি কোরো না বর্ষণ,
     আজ হতে মন প্রাণ হও গো সুস্থির।

অতীত ও ভবিষ্যত হইব বিসমৃত।
     জুড়িয়াছে কমলার ভগন হৃদয়!
সুখের তরঙ্গ হৃদে হয়েছে উত্থিত,
     সংসার আজিকে হোতে দেখি সুখময়।

বিজয়েরে আর করিব না তিরস্কার
     সংসারকাননে মোরে আনিয়াছে বলি।
খুলিয়া দিয়াছে সে যে হৃদয়ের দ্বার,
     ফুটায়েছে হৃদয়ের অস্ফুটিত কলি!