বাঁশিওআলা

            “ ওগো বাঁশিওআলা,

                 বাজাও তোমার বাঁশি,

                       শুনি আমার নূতন নাম”

             — এই বলে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি,

                       মনে আছে তো?

 

আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে।

        সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নি

            আমাকে মানুষ করে গড়তে—

                  রেখেছেন আধাআধি করে।

        অন্তরে বাহিরে মিল হয় নি

            সেকালে আর আজকের কালে,

                 মিল হয় নি ব্যথায় আর বুদ্ধিতে,

                       মিল হয় নি শক্তিতে আর ইচ্ছায়।

আমাকে তুলে দেন নি এ যুগের পারানি নৌকোয়,

       চলা আটক করে ফেলে রেখেছেন

            কালস্রোতের ও পারে বালুডাঙায়।

                 সেখান থেকে দেখি

            প্রখর আলোয় ঝাপসা দূরের জগৎ —

       বিনা কারণে কাঙাল মন অধীর হয়ে ওঠে,

            দুই হাত বাড়িয়ে দিই,

                  নাগাল পাই নে কিছুই কোনো দিকে।

 

বেলা তো কাটে না,

        বসে থাকি জোয়ার - জলের দিকে চেয়ে—

            ভেসে যায় মুক্তি - পারের খেয়া,

                 ভেসে যায় ধনপতির ডিঙা,

                       ভেসে যায় চল্‌তি বেলার আলোছায়া।

                     এমন সময় বাজে তোমার বাঁশি

                     ভরা জীবনের সুরে।