চিত্রা

হৃৎপিণ্ড করিয়া ছিন্ন রক্তপদ্ম-অর্ঘ্য-উপহারে

ভক্তিভরে জন্মশোধ শেষ পূজা পূজিয়াছে তারে

মরণে কৃতার্থ করি প্রাণ। শুনিয়াছি তারি লাগি

রাজপুত্র পরিয়াছে ছিন্ন কন্থা, বিষয়ে বিরাগী

পথের ভিক্ষুক। মহাপ্রাণ সহিয়াছে পলে পলে

সংসারের ক্ষুদ্র উৎপীড়ন, বিঁধিয়াছে পদতলে

প্রত্যহের কুশাঙ্কুর, করিয়াছে তারে অবিশ্বাস

মূঢ় বিজ্ঞজনে, প্রিয়জন করিয়াছে পরিহাস

অতিপরিচিত অবজ্ঞায়, গেছে সে করিয়া ক্ষমা

নীরবে করুণনেত্রে — অন্তরে বহিয়া নিরুপমা

সৌন্দর্যপ্রতিমা। তারি পদে মানী সঁপিয়াছে মান,

ধনী সঁপিয়াছে ধন, বীর সঁপিয়াছে আত্মপ্রাণ ;

তাহারি উদ্দেশে কবি বিরচিয়া লক্ষ লক্ষ গান

ছড়াইছে দেশে দেশে। শুধু জানি তাহারি মহান

গম্ভীর মঙ্গলধ্বনি শুনা যায় সমুদ্রে সমীরে,

তাহারি অঞ্চলপ্রান্ত লুটাইছে নীলাম্বর ঘিরে,

তারি বিশ্ববিজয়িনী পরিপূর্ণা প্রেমমূর্তিখানি

বিকাশে পরমক্ষণে প্রিয়জনমুখে। শুধু জানি

সে বিশ্বপ্রিয়ার প্রেমে ক্ষুদ্রতারে দিয়া বলিদান

বর্জিতে   হইবে দূরে জীবনের সর্ব অসম্মান ;

সম্মুখে দাঁড়াতে হবে উন্নত মস্তক উচ্চে তুলি

যে মস্তকে ভয় লেখে নাই লেখা, দাসত্বের ধূলি

আঁকে নাই কলঙ্কতিলক। তাহারে অন্তরে রাখি

জীবনকন্টকপথে যেতে হবে নীরবে একাকী,

সুখে দুঃখে ধৈর্য ধরি, বিরলে মুছিয়া অশ্রু-আঁখি,

প্রতিদিবসের কর্মে প্রতিদিন নিরলস থাকি,

সুখী করি সর্বজনে। তার পরে দীর্ঘপথশেষে

জীবযাত্রা-অবসানে ক্লান্তপদে রক্তসিক্ত বেশে

উত্তরিব একদিন শ্রান্তিহরা শান্তির উদ্দেশে

দুঃখহীন নিকেতনে।  প্রসন্নবদনে মন্দ হেসে

পরাবে মহিমালক্ষ্মী ভক্তকণ্ঠে বরমাল্যখানি,

করপদ্মপরশনে শান্ত হবে সর্ব দুঃখগ্লানি