চিত্রা

যখনি দাঁড়াবে তুমি সম্মুখে তাহার, তখনি সে

পথকুক্কুরের মতো সংকোচে সত্রাসে যাবে মিশে ;

দেবতা বিমুখ তারে, কেহ নাহি সহায় তাহার,

মুখে করে আস্ফালন, জানে সে হীনতা আপনার

মনে মনে।

 

 

        কবি, তবে উঠে এসো — যদি থাকে প্রাণ

তবে তাই লহো সাথে, তবে তাই করো আজি দান।

বড়ো দুঃখ, বড়ো ব্যথা — সম্মুখেতে কষ্টের সংসার

বড়োই দরিদ্র, শূন্য, বড়ো ক্ষুদ্র, বদ্ধ, অন্ধকার।

অন্ন চাই, প্রাণ চাই, আলো চাই, চাই মুক্ত বায়ু,

চাই বল, চাই স্বাস্থ্য, আনন্দ-উজ্জ্বল পরমায়ু,

সাহসবিস্তৃত বক্ষপট। এ দৈন্যমাঝারে, কবি,

একবার নিয়ে এসো স্বর্গ হতে বিশ্বাসের ছবি।

 

এবার ফিরাও মোরে, লয়ে যাও সংসারের তীরে

হে কল্পনে, রঙ্গময়ী! দুলায়ো না সমীরে সমীরে

তরঙ্গে তরঙ্গে আর, ভুলায়ো না মোহিনী মায়ায়।

বিজন বিষাদঘন অন্তরের নিকুঞ্জচ্ছায়ায়

রেখো না বসায়ে আর। দিন যায়, সন্ধ্যা হয়ে আসে।

অন্ধকারে ঢাকে দিশি, নিরাশ্বাস উদাস বাতাসে

নিশ্বসিয়া কেঁদে ওঠে বন। বাহিরিনু হেথা হতে

উন্মুক্ত অম্বরতলে, ধূসরপ্রসর রাজপথে

জনতার মাঝখানে। কোথা যাও, পান্থ, কোথা যাও —

আমি নহি পরিচিত, মোর পানে ফিরিয়া তাকাও।

বলো মোরে নাম তব, আমারে কোরো না অবিশ্বাস।

সৃষ্টিছাড়া সৃষ্টিমাঝে বহুকাল করিয়াছি বাস

সঙ্গিহীন রাত্রিদিন ; তাই মোর অপরূপ বেশ,

আচার নূতনতর, তাই মোর চক্ষে স্বপ্নাবেশ

বক্ষে জ্বলে ক্ষুধানল। যেদিন জগতে চলে আসি,

কোন্‌ মা আমারে দিলি শুধু এই খেলাবার বাঁশি।