নটীর পূজা

পাটলী। দেবদত্তের শিষ্যেরা।

রোদিনী। রক্তপাত তবে শুরু হল। তাই যদি হলই তাহলে আমাদের হাতেও অস্ত্র আছে। এ পাপ সইবে না। এ যে প্রভুর সংঘকে মারলে। শ্রীমতী ক্ষমা চলবে না, অস্ত্র ধরো।

শ্রীমতী। লোভ দেখিয়ো না রোদিনী। আমি নটী, তোমার ওই তলোয়ার দেখে আমার এই নাচের হাতও চঞ্চল হয়ে উঠল।

পাটলী। তাহলে এই নাও।

তরবারি দান

শ্রীমতী। (শিহরিয়া হাত হইতে তলোয়ার পড়িয়া গেল) না, না। প্রভুর কাছ থেকে অস্ত্র পেয়েছি। চলছে আমার যুদ্ধ, মার পরাস্ত হোক, প্রভুর জয় হোক!

পাটলী। চল্‌ রোদিনী, ভগবতীর দেহ বহন করে নিয়ে যেতে হবে শ্মশানে।

[উভয়ের প্রস্থান
কয়েকজন রক্ষিণী সহ রত্নাবলীর প্রবেশ

রত্নাবলী। এই-যে এখানেই আছে। ওকে রাজাদেশ শুনিয়ে দাও।

রক্ষিণী। মহারাজের আদেশ এই যে, তুমি নটী, তোমাকে আশোকবনে নাচতে যেতে হবে।

শ্রীমতী। নাচ! আজ!

মালতী। তোমরা এ কী কথা বলছ গো! মহারাজের ভয় হল না এমন আদেশ করতে?

রত্নাবলী। ভয় হবারই তো কথা। সেই দিনই তো এসেছে। তাঁর নটীদাসীকেও ভয় করবেন রাজেশ্বর! গ্রাম্য বর্বর।

শ্রীমতী। কখন নাচ হবে?

রত্নাবলী। আজ আরতির বেলায়।

শ্রীমতী। প্রভুর আসনবেদির সামনে?

রত্নাবলী। হাঁ।

শ্রীমতী। তবে তাই হোক।

[ সকলের প্রস্থান
ভিক্ষুদের প্রবেশ ও গান


হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী, নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব
ঘোর কুটিল পন্থ তার লোভজলিট বন্ধ

নূতন তব জন্ম লাগি কাতর সব প্রাণী
কর’ ত্রাণ মহাপ্রাণ, আন’ অমৃতবাণী,
বিকশিত কর প্রেমপদ্ম চির-মধুনিষ্যন্দ।

শান্ত হে, মুক্ত হে, হে অনন্তপুণ্য,
করুণাঘন, ধরণীতল কর কলঙ্কশূন্য।

এস দানবীর দাও ত্যাগকঠিন দীক্ষা,
মহাভিক্ষু লও, সবার অহংকার ভিক্ষা।