বশীকরণ
নিস্কৃতি নেই।

অন্নদা। আর-কারও উপর এ মন্ত্রের পরীক্ষা করা হয়েছে?

মাতাজি। না, তোমার জন্যই এতদিন এ মন্ত্র ধারণ করে রেখেছিলেম। আজ এর আশ্চর্য প্রত্যক্ষ ফল পেয়ে গুরুর চরণে মনে মনে শতবার প্রমাণ করছি। অব্যর্থ মন্ত্র। মন্ত্রে তোমার কি বিশ্বাস হল না?

অন্নদা। বশীকরণের কথা অস্বীকার করতে পারি নে। এখন তোমাকে একবার এই মন্ত্রগুলো পড়িয়ে নিতে পারলে আমি নিশ্চিন্ত হই।

দাসীকর্তৃক সম্মুখে আহার্য-স্থাপন

অন্নদা। এও বশীকরণের অঙ্গ। বন্যমৃগই হোক আর শহুরে গাধাই হোক পোষ মানাবার পক্ষে এটা খুব দরকারি।

আহারে প্রবৃত্ত

আশুর দ্রুত প্রবেশ

[মাতাজি প্রভৃতির প্রস্থান

আশু। ওহে অন্নদা, ভারি গোলমাল বেধে গেছে। বাঃ, তুমি যে দিব্যি আহার করতে বসেছে! তোমার এ কী রকমের সাজ! (উচ্চহাস্য) ব্যাপারখানা কী? নরমুণ্ড, খাঁড়া, বাতি, জবার মালা! তোমার বলিদান হবে নাকি?

অন্নদা। হয়ে গেছে।

আশু। হয়ে গেছে কী রকম?

অন্নদা। সে-সকল ব্যাখ্যা পরে করব। তোমার খবরটা আগে বলো।

আশু। তুমি বিবাহের জন্য যে কন্যাটিকে দেখবে বলে স্থির করেছিলে, তাঁরা হঠাৎ উনপঞ্চাশ নম্বর থেকে বাইশ নম্বরে উঠে গেছেন। আমি কন্যার বিধবা মাকে মাতাজি মনে করে বারবার এমন নির্বোধের মতো কথাবার্তা কয়ে গেছি যে, তাঁরা ঠিক করে নিয়েছেন, আমি মেয়েটিকে বিবাহ করতে সম্মত হয়েছি। এখন তুমি না গেলে তো আর উদ্ধার নেই।

অন্নদা। মেয়েটি দেখতে কেমন?

আশু। দেবকন্যার মতো।

অন্নদা। তা হোক, বহুবিবাহ আমার মতবিরুদ্ধ।

আশু। বল কী! সেদিন এত তর্ক করলে—

অন্নদা। সেদিনকার চেয়ে ঢের ভালো যুক্তি আজ পাওয়া গেছে—

আশু। একেবারে অখণ্ডনীয়?

অন্নদা। অখণ্ডনীয়।

আশু। যুক্তিটা কিরকম দেখা যাক।

অন্নদা। তবে একটু বোসো। ( প্রস্থান ও মাতাজিকে লইয়া প্রবেশ) ইনি আমার স্ত্রী শ্রীমতী মহীমোহিনী দেবী।

আশু। অ্যাঁ! ইনি তোমার— আপনি আমাদের অন্নদার— কী আশ্চর্য! তা হলে তো হতে পারে না!

অন্নদা। হতে পারে না কী বলছ? হয়েছে, আবার হতে পারে না কী? একবার হয়েছে, এই আবার দুবার হল. তুমি বলছ হতে পারে না!

আশু। না, আমি তা বলছি নে। আমি বলছি, সেই বাইশ নম্বরের কী করা যায়!