সুন্দর
যুগে যুগে কালে কালে        সুরে সুরে তালে তালে
জীবন-মরণ-নাচের ডমরু বাজাও জলদমন্দ্র হে।
নমো নমো নমো—
তোমার নৃত্য অমিত বিত্ত ভরুক চিত্ত মম॥


নুটু। নাচ তো হল রানী। এবার পুঁথিতে কী লিখছে?

অমিতা। এবারে দ্বিধার গান। সুন্দর তো আসছেন, কিন্তু মনে ভয় হয় তিনি কি আমাকে আপন বলে চিনে নেবেন?

নুটু। চিনতে দেরি হবে কেন, রানী?

অমিতা। এখনো আমার মধ্যে যে রঙ লাগে নি।

নুটু। কবে লাগবে?

অমিতা। যখন তিনি আপন রঙে রাঙিয়ে দেবেন। মঞ্জরী এসো, ধরো গান।


দি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে
এই নব ফাল্গুনের দিনে— জানি নে, জানি নে।
সে কি আমার কুঁড়ির কানে      কবে কথা গানে গানে,
পরান তাহার নেবে কিনে      এই নব ফাল্গুনের দিনে
জানি নে,   জানি নে॥
সে কি আপন রঙে ফুল রাঙাবে।
সে কি মর্মে এসে ঘুম ভাঙাবে।
ঘোমটা আমার নতুন পাতার হঠাৎ দোলা পাবে কি তার,
গোপন কথা নেবে জিনে,    এই নব ফাল্গুনের দিনে—
জানি নে, জানি নে॥

অমিতা। কিন্তু সময় যে যায়। সুন্দর আসবেন কখন? এখনো তো শূন্য রয়েছে আসন ওলো কলিকা— ভৈরবীতে বেদনার সুর লাগিয়ে দে।

নুটু। রানী, আজ আবার বেদনা কেন? আজ ভৈরবী থাক্‌— আজ সাহানা।

অমিতা। প্রতীক্ষার চোখের জলে মন যখন খুব করে ভিজে যায় তখনি মিলনের ফুল সম্পূর্ণ করে ফুটে ওঠে। কালিকা, এইবার ওই গানটা—

'তোমায় চেয়ে আছি' বসে পথের ধারে সুন্দর হে।
জমল ধুলা প্রাণের বীণার তারে তারে সুন্দর হে॥
নাই যে কুসুম, মালা গাঁথব কিসে! কান্নার গান বীণায় এনেছি যে,
দূর হতে তাই শুনতে পাবে অন্ধকারে সুন্দর হে।
দিনের পরে দিন কেটে যায় সুন্দর হে।