পত্রপুট

                নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা।

   তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে

          পঙ্কিল হল ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে ;

    দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়

                   বীভৎস কাদার পিণ্ড

    চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।

 

 

সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায়

      মন্দিরে বাজছিল পূজোর ঘণ্টা

      সকালে সন্ধ্যায়, দয়াময় দেবতার নামে ;

                শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে ;

                কবির সংগীতে বেজে উঠছিল

                             সুন্দরের আরাধনা।

 

 

             আজ যখন পশ্চিমদিগন্তে

       প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস,

       যখন গুপ্তগহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল,

          অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করল দিনের অন্তিমকাল,

                       এসো যুগান্তরের কবি,

                       আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে

                       দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে,

                              বলো ‘ ক্ষমা করো ' —

                              হিংস্র প্রলাপের মধ্যে

                সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী।