সোনার তরী

নাচে ছয় ঋতু, না মানে বিরাম,

         বাহুতে বাহুতে ধরিয়া

শ্যামল স্বর্ণ বিবিধ বর্ণ

         নব নব বাস পরিয়া।

চরণ ফেলিতে কত বনফুল

ফুটে ফুটে টুটে হইয়া আকুল,

উঠে ধরণীর হৃদয় বিপুল

         হাসি-ক্রন্দনে ভরিয়া।

 

পশু-বিহঙ্গ কীটপতঙ্গ

         জীবনের ধারা ছুটিছে।

কী মহা খেলায় মরণবেলায়

তরঙ্গ তার টুটিছে।

কোনোখানে আলো কোনোখানে ছায়া,

জেগে জেগে ওঠে নব নব কায়া,

চেতনাপূর্ণ অদ্ভুত মায়া

          বুদ্‌বুদ সম ফুটিছে।

 

 

ওই কে বাজায় দিবস-নিশায়

         বসি অন্তর-আসনে,

কালের যন্ত্রে বিচিত্র সুর —

         কেহ শোনে কেহ না শোনে।

অর্থ কী তার ভাবিয়া না পাই,

কত গুণী জ্ঞানী চিন্তিছে তাই,

মহান মানব-মানস সদাই

         উঠে পড়ে তারি শাসনে।

 

শুধু হেথা কেন আনন্দ নাই,

         কেন আছে সবে নীরবে?

তারকা না দেখি পশ্চিমাকাশে,

         প্রভাত না দেখি পুরবে।