স্থূল বুদ্ধির বাধাও নেই?
সেটা না থাকলে বুদ্ধি মাত্রই হয়ে পড়ে বেকার। ভালো - মন্দ বোকা - বুদ্ধিমানের ভেদ আছেই। চরিত্র আছে নানা রকমের। ভাবের বৈচিত্র্য আছে, ইচ্ছার স্বাতন্ত্র্য আছে। এখন তিনিই ভালো মাস্টার যিনি সেই অনেকের মধ্যে প্রবেশ করতে পারেন, শিক্ষা এখন অন্তরে অন্তরে।
দাদামশায়, ইস্কুলটা কোথায় আছে সেটা ঠিক মনে আনতে পারছি নে।
পৃথিবীতে তিনটে বাসা আছে — এক সমুদ্রতলে, আর - এক ভূতলে, আর আছে আকাশে যেখানে সূক্ষ্ম হাওয়া আর সূক্ষ্মতর আলো। এইখানটা আজ আছে খালি আগামী যুগের জন্যে।
তা হলে তোমার ক্লাস চলেছে সেই হাওয়ায় সেই আলোয়। কিন্তু, ছাত্রদের চেহারাটা কিরকম।
বুঝিয়ে বলা শক্ত, তাদের আকার নিশ্চয়ই আছে, কিন্তু আকারের আধার নেই।
তা হলে বোধ হচ্ছে নানা রঙের আলোয় তারা গড়া।
সেইটেই সম্ভব। তোমাদের বিজ্ঞান - মাস্টার তো সেদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বজগতে সূক্ষ্ম আলোর কণাই বহুরূপী হয়ে স্থূল রূপের ভান করছে। সেদিন আলো আপন আদিম সূক্ষ্মরূপেই প্রকাশ পাবে। ক্লাসে তোমরা সবাই আলো করে বসবে। সেদিন ওটিন - স্নো - ওয়ালারা একেবারে দেউলে হয়ে গেছে।
দেউলে কেন, আলো হয়ে গেছে।
দেউলে হয়ে যাওয়ার মানেই তো আলো হয়ে যাওয়া।
আমি কোন্ রঙের আলো হব, দাদামশায়।
সোনার রঙের!
আর তুমি?
আমি একেবারে বিশুদ্ধ রেডিয়ম।
সেদিন আলোয় আলোয় লড়াই হবে না তো? ইলেক্ট্রন নিয়ে হবে না কি কাড়াকাড়ি।
ভাবনা ধরিয়ে দিলে। লীগ অব লাইট্স্ - এর দরকার হবে বোধ হচ্ছে। ইলেকট্রন নিয়ে টানাটানির গুজব এখনই শুনতে পাচ্ছি।
ভালোই তো, দাদামশায়। বীররসের কবিতা তোমার ভাষায় উজ্জ্বল বর্ণে বর্ণিত হবে। ঐ যাঃ, ভাষা থাকবে তো?
শব্দের ভাষা নিছক ভাবের ভাষায় গিয়ে পৌঁছবে, ব্যাকরণ মুখস্থ করতে হবে না।
আচ্ছা, গান?